৬১৬৩০০১৬৭০১

হিরণ

(উপন্যান)

[প্রথম খণ্ড]

পাশপাশি

শ্রীরাজরুঞ্ঙ রায় প্রণীত

উন এস

অ।শুততাব ঘোষ এবং কোম্পানি কর্তৃক মুদ্রিত প্রকাশিত

আল্বাট প্রেস্‌।

৪৬নং শিবনারায়ণ দাসের লেন, কর্ণবালিস হ্ীট, বাহির নিমল!,--কলিকাতা

কাক্তিক,_-১২৮৬।

মূল্য এক টাকা চারি আনা।

বিজ্ঞাপন |

ন্তন ব্যাপার... দেশে পূর্বের কখন তি ধরুর্ণের ভর বা! হির হয় নাই | সাত কোটি লে কোর বাসভুছি রঙ্গদেশে

গলকলুতক্ু

রৌপিত হইল।

এই তরুবরের অনেক শাখা, এক এক শাখায় এক এক রকম ফুল। একটি ফুলের সহিত অপরটির সাদৃশ্য নাই অথচ সৌন্দধ্যের ছড়াছড়ি ।--প্রত্যেক ফুলের বর্ণ নৃতন-- ধশ্ম নৃতন_গন্ধ নৃতন | ইহার মধ্যে বিনি যেটির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিবেন, তিনি তাহাতেই মোহিত হইবেন আজ কাল বাঙ্গালির যাহা ভালবাসার জিনিষ, তাহাই এই কল্পতরুতে ফলিবে বৃদ্ধ বৃদ্ধা, প্রৌঢ় প্রৌঢ়া, যুবক যুবতী, বালক বালিক। প্রভৃতি সকলেরই মনোরঞ্জন-পুষ্পগুচ্ছ ইহার শাখায় শাখায় ফুটিবে | লোক যত, রুচিও তত, এই জন্যই এই গল্পকল্পতরুর স্্টি; কারণ কল্পতরুর নিকট যে যা? চায়, সে তা"ই পায়, ইহা সকলেই জাঁনে।

সাত আট জন উৎকৃষ্ট গল্পরচনক্ষম ব্যক্তি এই তরুবন্ের মূলে নানাবিধ পাত্র পুরিয়া বিবিধস্বাদবিশিষ্ট জলসেচর্ন করিবেন। তীহারা কখন স্বীয় স্বীয় মানস-সরোবরের জল,

[ 1

কখন বা স্তর ওয়াণ্চটর স্কট থ্যাকারে, ডিকেন্ন, ডুমাস্‌, রেণল্ড লিটন প্রভৃতির সহায়তা লইয়। এই কল্পতরুর শাখা প্রশাখার বৃদ্ধির সহিত পাঠক পাঠিকাগণের নৃতন নূতন আনন্দ কৌতুহল বৃদ্ধি করিবেন। যিনি এই গল্পকল্পউরুর ফুল কিনিতে চাহেন, কিন্ুন_ঠকিবেন না। কেন না ইন্াতে বহ্সরে অন্যন পক্ষে আপাততঃ (প্রতি সপ্তাহে এক ফর্ম্মা করিয়া প্রকাশিত হইবে বলিয়া) তিন চারিটি, ক্রমে (প্রতি সপ্তাহে দুই, এমন কি প্রত্যহ এক এক ফন্মা করিয়। গ্রকা- শিত হইবে বলিয়া) পাঁচ ছয়টি এগার বাঁরটি করিয়া ফুল ফুটিবে, সুতরাং আশা পুরণ হইল না বলিয়! কাহাকেও হতাশ হইতে হইবে না॥ যদিও ইহাতে বরাবর ফুল শ) ফুটে, তথাপি একটি না একটি সর্ববাঙ্গসম্পন্ন পুর্ণবিকসিত ফুল পাঠক পাঠিকার হস্তে স্শোভিত হইবেই হইবে, হুতরাং তাহা! হইলেও আর কাহারও ঠকিবার কথা নাই।

প্রতি ফর্্মার নগদ মূল্য দুই পয়সা মীত্র। মফঃস্বলে ছুই পয়সা মাহ্ুলে ১৬ কর্ম্মী একত্রে যাইবে 1 গল্পকল্পতরুর ফুল ধারে বিক্রীত হয় না। নিম্বলিখিত কোম্পানির নিকট নিন্নলিখিত ঠিকানায় গল্প কল্প তরুর ফুল বিক্রীত হয়।

আশুতোষ ঘোষ এবং কোম্পানি, প্রকাশ কগণ। আল্বার্ট প্রেস, ৪৬নং শিবনারায়ণ দাসের লেনকর্ণবালিস্‌ ্বীট,বাছির দিমলা,--কলিকাত।। শনিবার ২৮এ বৈশাখ, ১২৮৬ সাল।

গলকলতকু |

৯৮2

[গ্রথম কুস্থম]

হিরণুয়ী।

(উপন্যাস)

প্রথম পরিচ্ছেদ

স্পরপসসসর

নৌকামগ্র।

বক্তিয়ার খিলিজি সপ্তদশ জন অশ্বারোহী সৈনিক সমভিব্যাহধারে নব- ছীপের রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করিলে, মহারাজ লাঙ্ষাণেয়ের ব্রীক্মণ সচিবের! ষড়ঘন্ত্র করিয়া তাহাকে গোপনে পলায়ন করিতে বলিলেন বৃদ্ধ রাজা সেই সকল দুর্কদ্ধি বিপ্রমস্তীর কুপরামর্শে সন্্ীক গুপ্তদ্ধার দিয়া গঙ্গাতটে প্রস্থান করিলেন। সেখানে একখানি ক্ষুদ্র তরণীতে আরোহণ করিয়া সপত্বীক মহাতীর্থ জগন্নাথঙ্গেত্রে চলিলেন। বক্তিষ্ার বা ঙাহার কোন সমভিব্যাহারী বাক্তি তাহা জানিতে পারিলেন না। রাজা পলায়ন করিলেন বটে, কিন্তু তাহার দ্বিতীয় প্রাথসদূশী রাজধানী পলায়ন করিতে পারিল না। শক্রকরে নবদীপের একশেষ দুদ্দিশ। ঘটিল। রাজ্য অরাজক হইয়] উঠিল যবনের! অন্নদিনের মধ্যেই এতদূর অত্যাচার আরভ্ভ করিল মে, হিন্দুপ্রজাগণ্রে গ্নভাই একমাত্র মানসম্ম রক্ষার অবলম্বন হইয়া! উঠিল। অনেক প্র] যধখনকরে নিঙ!স্ত উত্পীড়িত হইয়া দেশত্যাগ পধান্তও করিতে লাগিল।

গল্পকলতরু। [প্রথম

সেই উৎসন্নদশাপ্রাপ্ত নবরীপ নগরের এক পল্লীতে একজন ধনবান্‌ ব্রাঙ্গণ বাস করিতেন। তাহার পিতা সপ্তগ্রাম হইতে বাসস্থান উঠাইয়। নবদ্বীপে গিয়া বাস করিয়াছিলেন বাঁজসরকাঁরে কোন একটি ভাল কার্ধ্য পাইবার জন্তই তিনি নবদ্বীপবাসী হইয়াছিলেন। ফলে, সৌভাগ্যক্রমে সেখানে একটি উপযুক্ত পদও প্রাপ্ত হইয়], আশার চরিতার্থতা সম্পাদন করিয়াছিলেন আমর! যে ব্রাহ্মণের বিষয় বলিতেছি, তিনিই তাহার একমাত্র পুত্র তাহার পিতা বাজকন্মচাবী হঈয়। অনেক সম্পত্তি রাখিয়! পরলোকগত হইলে, তিনিই সমস্ত সম্পত্তির একমাত্র অধিক।বী হইয়! ুখশ্বচন্দে কালবাপন করিয়। আনিতেছিলেন।

কিন্তু মন্তুষ্যের অবস্থা চিবকাল সমান থাকে না-থাকিবেও না। কাল যাহাকে হাসিতে দেখিয়াছি, আজ তাহকে কাদিতে দেখিলাম-_কাল যাহাকে কাদিতে দ্রেখিরাছি, আজ তাহাকে হাসিতে দেখিলাম--কাল যাহাকে সুখের প্রভু বলিষাছিলান-_ আছ তাহাকে দুঃখের কিন্কব বলিতে হইল-_আবার কাল যাহাকে ছুঃখের দাস বলিথাছিলাম, আজ তাহাকে স্ুখেব অধীশ্বর বলিতে হইল। মন্তুষ্যব অবস্থা এইবপ পবিবর্তনশীল। চক্রের ন্যায় মন্ুব্য-ভাগোঁ সুথছুঃখ অবিশ্রান্তভাবে ঘুবিতেছ। নদীর জল পক্ষে যেন্ধপ বন্বন্ধ, নরভাগ্যের সখ ছুঃখেও ঠিক সেইন্ধপ সঙ্বন্ধ। হেন মহামুত্তি__বিরাটসৃত্তি প্রকৃতির ভাগ্যেই যেকালে আলোকপুর্ণ দিবা মসপৃর্ণ নিশা সখছঃখের অভিনয়প্ট অবিরত ফেলিতেছে, তুলিতেছে, তখন ক্ষুদ্র মানব-ভাগ্যের কথা অতি তুচ্ছ

বক্তিয়ার খিলিজির সৈম্ভগণ উক্ত ব্রাহ্মণের বখাসর্কান্ব লুঠন করিয়া লইল।-__ ব্রাহ্মণ মহাবিপদে পড়িলেন তিনি যে আর কোন উপায়ে স্বীয় সম্পত্তি বক্ষ! করিতে পারিবেন, তাহার কোন উপায় দেখিতে পাইলেন না। হিন্দুবাজধানী নবদ্বীপ এক্ষণে মুসলমানরাজধানী। হিন্দুরাজার সিংহাসনে মুসলমান রাজা স্থতবাং তাহাব পরশ্বধ্য রক্ষার আর কিছুই উপায় রহিল না। ক্রমে ক্রেমে মুসলমানের তাহার যথাসর্বস্ব আত্মসাৎ করিয়া, অন্তঃপুরে প্রবেশপূর্ধক ভয়ানক অত্যাচার করিবার উপক্রম করিল। তিনি তাহা পূর্বে জানিতে পারিয়া, গৃহ পরিত্যাগ করিয়া! পলায়ন

কুসুম হিরণ্নয়ী।

করিবার চেষ্টা করিতে লাগিলেন অবশেষে ত্বরাপর হইয়া কতকগুলি বহুমূল্য অলঙ্কার মণিমুক্ত! লইর়, সহধর্মিণী ছুইটি পুত্রের সহিত গুপ্তদ্বার দরিয়া গৃহ হইতে নির্গত হইলেন।

্বাভার অনেকট1 সৌভাগ্যের বিষয় বলিতে হইবে ষে, যখন তিনি জী পুত্র লইঞ্ম! পলায়ন করিতেছিলেন, তখন সন্ধা! বিদায় লইবার জন্ঠ রজনীকে আলিঙ্গন করিতেছিল। বাস্তবিক, দিনের বেলা হইলে, তাহার পলায়ন করিয়া জীবন রক্ষ! করা অতি কঠিন হইত বক্তিরাঁরেব ভয়ে মুসলমান সেনার! মধ্যে মণ্যে রাত্রিকালেই নগরবাসীদের গৃহলুগন),এমন কি প্রাণবিনাশ পর্যযস্তও করিত। যাহা হউক, উক্ত বিপদাপন্ন ব্রাঙ্গণ সর্বস্বাস্ত হইয়।ও কেবল অন্ধকারের কৃপা জ্রীপুত্রদের সহিত প্রাণান্ত হয়েন নাই।

পাঠক), আপণি সেই ত্রাঙ্গণের নাম কি, জানেন *্না। তীভার নাম গোলোকনাথ। তাহার স্বীর নাম ভারাস্ুন্দরী। আর তাহার পুত্র ছুইটির মধো অগ্রজের নাম বীরেন্দ্রনাথ এবং অন্থজের নাম নাম ধীকেন্্রনাথ। গোঁলোকনাখের বপ্রঃক্রম অন্যান সাতচল্লিশঃ তারাস্ুন্দরীর ছত্রিশ, জ্যেষ্ঠ পুত্রটির ষোড়শ কনি:্র চতুদ্দশ বর্ষ।

গোঁলকনাথ, আপনার স্ত্রী পুত্র ভুইটিব প্রমিবিনাশেব ভয়ে? একে- ব।রে উদ্ধন্বানে গঙ্গাইটে আগমন করিলেন। আসিবার সময় তিনি এক- বার ভাবিরাছিলেন ষেঃ সময়ে নগরস্ত কোন বন্ধুর বাটীতে গমন করিয়া প্রাণরক্ষা করেন কিন্তু "মই ভাবনা! অশ্ডরে অনেকক্ষণ স্থান পায় নাই। তিনি আবার আব একটি নূতন চিন্তার অব্বীন হইয় ভাবিলেন, মুসলমানের! ক্রমশঃ যেরূপ অত্যাচার আরম্ভ করিয়াছে, তাহাতে আর নগ.রর কোন স্থানেই অবস্থান করা বিধেয় নহে। আজ--না হয় কাল--আবার হয়ত স্কাহাদিগেকে ববনহস্তে পড়িয়? প্রাণাস্তকর বিপদের ভাগী হইতে হইবে, স্থতরাং চিরকালের জন্তই নবদ্বীপ পরিত্যাগ করা সর্কোতোভাবে কর্তব্য। আবার সময়ে সকলেই উতপীড়িত, স্বতরাং কাহার নিকট যাওয়াও বিবেচনাসিদ্ধ নহে। পুনর্ধার পিভৃপিতামহদ্দিগের অদিবাসভূমি অপ্তগ্রামে

শসিয়। বাস করাই সম্পূর্ণ জপে উপযুক্ত গোলোৌকনাথ এইন্ধপ চিত্ত”

করিয়।) স্ত্রী পুত্র ছইটিকে সঙ্গে লইয়া; ভাগীরদীতটে উপস্থিত হইলেন

গল্পকলপতরু [প্রথম

গোলোকনাথ যখন গঙ্গার তীর-ভূমিতে উপনীত হইলেন, তখন রাক্রি প্রহর অতীত হইয়াছে সে দিন কৃষ্ণপক্ষের পঞ্চমী তিথি; সুতরাং নিশাকর সেই সময়ে ধীরে ধীরে তমোরাশিকে সরাইয়া, পূর্বগগনে উদ হইতেছিলেন। কিছুক্ষণ পূর্বে আকাশের অনস্ত দেহে চক্ষের অলক্ষো] ভস্থির জলদঙ্গাল চলিয়। বেড়াইতেছিল, কিস্তু এক্ষণে যদিও পুর্কের স্যায় চলিয়া! যাইতেছে, তথাপি আর মুষ্তি লুকাইতে পারিতেছে না; চন্দ্রের ধবল কৌমুদীমণ্ডিত হওয়ায়, নীরদথগ্ুগুলির প্রকৃত দ্ধূপ লুক্কায়িত হইয়া, রজতখও্মপ্ডিত হইয়াছে মেঘখগওলির এইরূপ রুপান্তর নিরীক্ষণ করিয়াই যে, লীতিবিৎ পণ্ডিতেরা “লোকে সঙ্গদোষে দোষী সঙ্গগুণে গুণী হইয়। থাকে” এই পদটিতে নীতিশান্কের নীতিস্তত্রসংখ্য। বৃদ্ধি করিয়াছেন, তাহাতে সন্দেহ নাই। অন্ধকারের দোষে মেঘখগুগুলি তমোময় হইয়াছিল, কিন্ত চন্দ্রেব গুণে রতজথণ্ডবৎ হইয়! দর্শকগণের দর্শনস্ুথ পরিবর্ধন করি- তেছে। চন্দ্রোদয়ের পুর্ধে উদ্ধগগনে নক্ষত্রমণ্ডলী আর লগগনে জেযাতি- রিঙগণসমূহ যেরূপে গর্ব করিতেছিল, এক্ষণে ঠিক তাহার বিপরীত। চ'ক্াদয়ের পুর্বে তাহাদের মুন্তি গপধিতকুলচুড়ায়ণি বিঝুশম্মীর হিতোপদেশের “নিরন্ডে পাদপে দেশে এরগ্ডোইপি জ্রমারতে” ওই অন্ধ শ্রোকটির, পরে মহাকবি কালিদাসের

“অরিষইশম্যাং পরিতোবিসারিণ। স্থজন্মনস্তম্ত নিছেন তেজসা।

নিশাথদীপাঃ সহসা হতহ্িষো বভবুরালেখ্যসমর্পিতা ইব ॥” কবিভার ভাবার্থের সভ্যতা সম্পাদণ করিল। স্থধাংশুকিরণ কোণখানে বৃক্ষশাধার ব্যবধান দিরা ভাগীরথীর শীতল সলিল স্পর্শ করিতে লাগিল, কোনথানে তীরস্থ গৃহের বাতায়ন দিয় নিদ্রাভিভূতা যুবতীর বদনকমল চুম্বন করিরা যেন কতই তৃপ্তিগাত করিল চন্দ্র কখন কখন চলঙ্জলদাবলীর পৃঠদেশে নুক্কাদ্রিত হইতেছিলেন, আবার কথন কখন তাহাদের তরল দেহ ভেদ করিজ্সা নিজের সধাময়ী কৌমুদী ধরাবক্ষে ছড়াইতে লাগিলেন। তন্দাভিজ্ত কোকিল কোকিল! দিবাত্রমে এক একবার কুহু কুহু করিয়া উঠিতেছে,কমাব সেই ক্রুতিম্থখবন্ধিনী কুহুধবনি নিস্তব্ধ আকাশে সমীবস্সঞ্চারে গড়াইয়া যাইতেছে প্রক্কতি দেবী নির্বাক হইয়া যেন মহাধ/াানে নি-গ

দ্বীন

ফৃক্গম] হিরণুয়ী।

হইয়াছেন! ফেবল ভীরসংলগ্ন কোন কোন তরণী হইতে নাবিককণ্ঠে এফ এক বার গ্রাময গীতের মধুর শব্ধ কর্ণকুহরে আশ্রয় লইতেছে। ্‌

এমন সময়ে গোলোকনাথ ভাগীরথীর উপরিতট হইতে তলতটে অব- রোহণ করিয়া “মাবি-_মাঝি” বলিয়া ছই চারি বার মধ্যম স্বরে ভাকিলেন 4 একথানগি ক্ষুদ্র নৌকা হইতে এক ব্যক্তি “কে ডাকেন, আজ্ঞে বলিয়! উত্তর বিল। তখন গোলোকনাঁথ তাহাকে আপনার নাম বলিলেন। মাঝি তত্ক্ষণাৎ ব্যন্তসমস্ত হইয়া নৌকা হইতে নামিল এবং তাহার নিকটে আসিয়া! নআঅতাহসকারে বলিল: “ঠাকুর মশাই ! আপনি এমন সমক্কে এখানে কি মনে ক'রে এলে ?” এই মাঝি গোলোকনাথকে অনেক বার অনেক স্থানে নৌকা করিয়া লইয়া গিয়াছিল, সুতরাং বল! বাছুল্য বে, এই ব্যক্তি তাহাকে বিশেষরূপে জানে *

প্রকৃত কথ। বলিলে পাছে মাঝি ভয় পায়, এইজন্ত গোলোকনাঁথ তৎক্ষণাৎ নূতন কথ! গড়িয়া তাহাকে বলিলেন : “মথুর! সপ্তগ্রাম হইতে একটা বিশেষ সংবাদ আসিয়াছে, এইজন্য আমি সেখাঁনে নপরিবারে এখনই যাইব। আমি একেবারে প্রস্তত হইয়া আসিয়াছি) কোনক্রমেই আর বিলম্ব করিতে পারিব নাঁ। তোর যদি কোন বাঁধা না থাকে; তবে তুইই আমা- দিগকে লইয়া যাইতে পারিস্) আর যদি এখন তোর যাইবার সুবিধা না হয়ঃ তবে না হয়, আর একখানা নৌকা ভাঁড় করিয়া দে,--কিন্তু আমি 'আজিই প্রপ্থান করিব।” এই মাঝির উপাধি সমেত নাম মথুর হাজরা

মথুর প্রায় চারি পাচ দিন হইতে কিছুই রোজগাব করিতে পারে নাই, কতরাং গোলোকনাথকে সপ্তগ্রামে লইরা যাইবার জন্য অনিচ্ছুক হইল না। আরও সে ভালরূপেই জনিত, অপরাপর আরোহীর অপেক্ষা তিনি তাহাকে ভাড়। ছাড়! টাক। কাপড় পুরস্কার দিয়া থাকেন।

অনন্তর মথুর মাঝি পুনর্ধার নিজের নৌকায় উঠিয়া ছুই জন লিড্রিত ঈাড়ীকে জাগাইল? জাগাইয়। তাহাদের কাণে কাণে কওকটি বাক্যব্যর করিল দড়ী ছুই জন অবিলম্বে নৌকাচালনৌপষোগী ভ্রব্যগুলি ঠিক করিতে লাগিল মথুর স্বয়ং চক্মকি ঝাড়ি একখণ্ড শোলায় অগ্টি সংযোগ করিল এবং সেই অগ্নিতে এক্টি মৃশ্প্রদীপ জালিল। ছুর্ভাগ্যক্রমে

গল্পকল্প হর | [প্রথম

প্রদীপটির মুখ ভাঁ্গিয়া গিয়াঁছিপ, সুতরাং মথুর উহার বর্তিকাটিকে বঙ্কিম- ভাবে রাখিয়! পুনর্ধার গোলোকনাথের নিকট আসিল।

তখন গোলোকনাথ মথুরকে লইয়া উপরি-তটে গেলেন এবং মথুবের হস্তে একটি কাপড়ের গাঠরী দিয়া, স্ত্রী পুরদিগকে সঙ্গে করিয়া! জলেব নিকট উপস্থিত হইলেন। মথুব সর্বাগ্রে নৌকার উপর গীঠরী রাখিয়া, একে একে বীরেন্দ্র ধীরেন্্রকে নৌকায় উঠাইয়া দ্রিল। তাহার পর গোলোকনাথ তারান্ন্দরী গঙ্গাবারি শিরংস্পর্শ করিয়া, নৌকায় আরোহণ কবিলেন। সর্বশেষে মথুর মাঝি নৌকার উপর বসির, জলমধ্যে কর্দম-

ংলগ্র গদ্দ ধৌ৩ করিল পা ধুইয1 স্বস্থানে ফ্াড়াইয়! হাইল ধরিল।

অনন্তর নৌকাবন্ধন বংশদণ্ড উত্তোলন করিয়1 মথুর ছুই জন ঈাড়ী “গঙ্গা পির্তি হরিবোল** বলিয়া নৌকা ছাড়ির দ্রিল। নৌকা ভাটি বহিয়! দক্ষিণ দিকে চলিল।

ছুই দিকে ছুইটি দাড় পড়িতেছে-_-নৌকাঁও কিঞ্চিৎ দমক দিয়া চলি- তেছে। মখুব দাড়ী ছুই জনেব স্থুথের বিষয় বলিতে হইবে যে, সৌভাগা- ক্রমে তাহাদিগকে উক্তান ঠেলিতে হইল না। মুখুর ভাঁজর1 সঙ্গী ছুইটির সঙ্ষে ঘবের কত কি কথা আবন্ত করিল। কথন মথুব প্রশ্ন কবিতেছে, ঈাড়ির। উত্তৰ দিঃতছে--কখন দাড়িব) প্রশ্ন কবিতেছে--মথুর উত্তব দিতেছে তিন জনেব মধ্যে কেহ কখন হাসিতেছে-কেহ কখন কিঞ্চিৎ বোষ প্রকাশ কবিতেছে--কেহ আবাব প্রফুলমনে এই বলিয়! গান করিতেছে

“পার কর পার কর ব'লে ডাকৃছি কত বেলা; (ও তুমি) শুনেও কি, শ্যাম শুন না হে, হয়েছ কি কালা ?”

মথুর মাঝির নৌকণ এইরূপে যাইতে লাগিল। ক্ষেপণীনিক্ষেপের মুছুমধুর শব্দে গোলোকনাথের পুত্র ছুইটি ঘুমাইয়! পড়িল; কিন্ত গোলোকনাথ তারাশ্থন্দরীর চক্ষে নিদ্রার আভাসও আসিল না। তাহার! উভয়ে মনশ্চক্ষে আপনার্দের সেই বিপৎপাত মুহুমুহি দর্শন করিয়! নিরতিশয় আকুল হইতে ছিলেন দীড়িমাঝির কথা বা গান শুনিয়াও শুনিতে ছিলেন না কেবল সেই দুর্ঘটন! বর্তমান অবস্থা ভাবিয়াই অস্থির হইতেছিলেন।

কু ম] হিরগয্ী।

পাঠক, গোঁলোঁকনাঁথ তারাস্ুন্দরীর মনের ভিতর--জঙদয়ের ভিতর কিবপ তরঙ্গাঘাত হইতে লাগিল, তাহা লেখনীমুখে কখনই ঠিক করিয়া বলিবার উপায় নাই। তুমিও যদি কখন এইরূপ অবস্থায় পড়িয়া থাক, তবে এই সময়ে একবার তাহ স্মরণ কর-বুঝিতে পারিবে নতুবা শত- পৃষ্টাত্বুক একখানি গ্রন্থ লিখিয়াও গোলোক-তারাব মনের হৃদয়ের এই চিত্র তোমাকে বুঝাইতে পারিব না। ব্যথার ব্যথী না হইলে এই বিপন্ন দ্ম্পতীর হৃদর়মনোভাব হদয়ম করিবার কাহারই ক্ষমতা নাই

সুদূর আকাশে চন্দ্রমগুলে স্ুশীতল কিরণ থর থর করিয়া কাপিতেছে--. আবার উহা ভাগীরঘীর স্ুনির্মল জলে পতিত হুইরা তর তর করিয়! ভামিতেছে। আকাশেও টাদ-_গঙ্গাজলেও চাদ। ইহা দেখিয়। €বাধ হইতেছে, চন্দ্র যেন দ্িবাঁভাগে রবিকিরণে হতঙ্ী হইরাছিল বলিয়! রাত্রি- কাঁলে জলদর্পণে মুখ দেখিতেছে কিন্ত এক্ষণে চাদের বদন-শোঁভাই বা কত। দিবার চার্দ আর নিশার টাদ যেন পরস্পর স্বতন্ত্র এক্ষণে এই যে, যেখানে সেখানে কিরণের ছড়াছড়ি, ইহা আর কিছুই নহে- চাঁদের মুখর হামি। অন্ধকার পাইয়া ঠাদ বড়ই খুসী--তাই এত হাসি। যা*ই হউক্‌, টাদ বড় নির্কোণ, কেন না,সে জানে না যে, যত হ্াসি--তত কান্না জার একটি কথা,_টাদ যেমন নির্ধ্বোধ, আবার তেমনই নির্দয় তা” নহিলে কি গৌোলোক-ভারার এই অভ্ভুতপুর্ব বিপর্দেও সে এত হাসে ?

দেখিতে দেখিতে প্রায় রাত্রি দ্বিপ্রহর অতীত হইয়া আসিল, নবন্বীপের নৌকাথানিও রাজধানী ছাড়িয়! প্রায় আট নয় ক্রোশ দক্ষিণে আসিয়া পড়িল। চতুদ্দিক নীরৰ;- কেবল দুইটি শব শ্রতিপথে আসিতেছে তাহার মধ্যে একটি ঝিল্লির, অপরটি ক্ষেপণী-নিক্ষেপের শব্দ। নদদীতট- বিরাজিত পাদপশ্রেণী হইতে বিল্লিকুল একত্র হইয়া যেন সমস্বরে বি ঝি করিয়া কহিতেছে “কে ?--কে ? আর নৌকার ক্ষেপণী জলে আঘাত করিয়। যেন উত্তর দিতেছে “চুপৃ-চুপ 1”

“ভবিষৎ অভেদ্য অন্ধকারে স্যষ্ট) সতরাং মানধ উহ1 দেখিতে পায় ন1। যদি ভবিষ্যতে আলোকের ছায়া মাত্রও থাকিত, তাহ হইলে পৃথিবটকে কেহই দুঃখের প্রস্থতি বপিতে সাহুমী হইত না। কিন্তু তবিষ্যৎ অন্ধকার-_

১০ গল্পকল্পতর্‌ | [প্রথম

পৃথিবীও হঃখের প্রস্ততি ।* গোলোকনাথ নেত্র নিমীলন করিয়া এই কথা- গুলি পীড়িত অন্তরে প্রস্তরাক্কিত রেখাবং থোদিত করিতেছিলেন। এমন সময়ে সহস! মথুর মাঝি চীৎকার করিয়া বলিয়া উঠিল, “ও কেল্লা ! ওরে হরে ! লৌকো বুঝি বাণচাল হ'ল দেখ দেখ্‌, শ্রীগ্গির দেখ_-পাট গুজে দে ।” এই কথা বলিবা মাত্র নৌকার মধ্যে বিষম গোলযোগ পড়িয়া (গল আমরা ভাবিয়াছিলাম, গোলোকনাথ তারাস্থন্দরীর মনোমধ্যে ষে ছুশ্চিন্তা আধিপত্য লাভ করিয়াছে, তাহ। অক্ষয় কিন্ত “বাণচাল” শবটি উত্থিত হইবাঁমাত্রই তাহ! ক্ষয় প্রাপ্ত হইল। তদপেক্ষা আরও ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্ত] তাহাদিগকে বাতিব্যস্ত করিয়! তুলিল। উভয়েই তাড়াতাড়ি করিয়৷ পুত্র ছইটিকে জাগাইতেও অবকাশ পাইলেন না।। ডাকিতে ডাকিতে তাহা- দিগকে নৌকার ভিতব হইতে টানিয়া আনিলেন। সেই সময়ে বালক ছইটির নিদ্রাভঙ্গ হইয়! গেল তাহার! প্রথমে অর্ধনিদ্রিত অর্ধজাগরিভ হইল বটে, কিন্ত সহসা নৌকার মধ্যে গোলমাল শুনিয়া ভয়ে চম্কাইয়] উঠিল--কথা কহিতে পারিল না, কিন্তু কাদিয়া ফেলিল। গোলোকনাথ একাকী নৌকায় থাকিলে তত ভয়ের কারণ ছিল না, কিন্ত তাহার সঙ্গে বালক বীরেন্দ্র, ধীরেন্তর তস্তরণাক্ষম] তারাস্থন্দরী তিনি সেই তিন জনের জন্ত নিতান্ত কাতর নিরুপায় হইয়া মাঁঝিকে বলিলেন, “মথুর 1--মথুর ! যদি আজ বাচাইতে পারিন্‌ তবে তোকে পাঁচ সহশ্র টাকা দিব।”

মথুর বলিল, “ভয় নেই; কন্তা ! ভয় নেই ) তোমার আশীব্বাদে এখুনি জল ধরে দিচ্চি।* একক্বন দাড়ি নৌকার জলপ্রবেশস্থলে হাত চাপিয়। পাট গু"জিতে লাগিল। অপর জন সেচনী দিয়া নৌকোখিত জল সেচন করিতে লাগিল। তাহাদের দৃঢ় তর যত্র পরিশ্রমে বিপদ নাশের অনেকট। সম্ভাবন। হইল বটে,কিস্ত বিপদের উপর বিপদ্দ! নৌকার যেস্থানে বাণচাঁল হইয়। গিয়!- ছিল, তাহার পার্খেই আবার আর একখান। তক্তা ফাসিয়া গেল। এবার আর কিছুতেই জলাঁখান থামিল না সকলেই হতাঁশ হইল। তারাম্বন্দরী বালক দুইটি মাতঙ্কে জড়িত শ্বরে কাদিয়। উঠিল। ছুই চারিবার “হেমা গঙ্গ।, হে ঈশ্বর,গেলাম, বাচ1৩-_হায় হায়” শব্দমাত্র রোদনের সঙ্গে মিশ্রিত হইয়। গঙ্গাগর্ড নীরব হইল জলে নৌকা নাই ! নৌকায় বাহার!

কুলম) হিরণাকী। ১১

ছিল, তাহারাঁও নাই! ক্ষণকালের মধ্যে নিজৰ সজীব উভয়েই অভিন্ন হইল ভাণীরথার মে স্থলে গোলোকনাথ সপরিবারে নৌকাডুবী হইয়াছিলেন, উহা তীর হইতে অন্যুন ১৫১৬ হস্ত দূর হইবে কিস্তুজলশ্োত অত্যন্ত প্রথরু ছিল। গোলোকনাথের বিপদের উপর বিপৎ্পাত দেখিয়া! আমাদের মনে পড়িল-- “একস্থ ছুঃখস্য যাবদন্তং গচ্ছাম্যহং পারমিবাঁণবস্থ্য | তাবদ্দিতীয়ং সমুপস্থিতৎ মে ছিদ্রেঘনর্থা বহুলীভবন্তি ॥৮

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

একার

জগদীশপ্রসাদ।

ষে স্থানে গোলোকনাথের নৌকা মগ্র হয়, ঠিক সেই স্থান হইতে ভাগী- রথীর পশ্চিম তীরে প্রায় পাচ ক্রোশ দূরে মধুপুর নামে একটি গগগ্রাম ছিল। সেই গ্রামটি উত্তরপাঁড়। দক্ষিণপাড়।) এই ছুই আখ্যায় বিভক্ত। উভয় পল্লীতেই অনেক ভদ্রলোকের বাস কিস্ত সেই সকল ভদ্রলোকের মধ্যে তিন চারি জন ব্যক্তি অপরাপর লৌকদিগের অপেক্ষা ধনসম্পন্ন ছিলেন। আবার সেই কএক ব্যক্তির মধ্যে দক্ষিণপাড়ায় অপর একজন অধিকতর ধনবান্‌ জমীদার ছিলেন। তাহার নাম জগদীশপ্রসাদ। জগদীশপ্রসা্দের পুত্র ব্যতীত অন্ত কিছুরই অভাব দিল না। যাহা হউক, তথাপি তাহাকে নিঃসস্তান বলা যায় না। কেন না বিধাতা তাহাকে ছুইটি কন্ত। দান করিয়া ছিলেন। পুত্রের মুখদর্শনে যে পরিমাণে পিত! সখান্ুভব করিকাী থাকেন)

১২ গরকল্পতরু। (প্রথম

তিনি কন্ঠ! ছইটির কোঁমলতাপূর্ণ বদনস্ুষম1 নিরীক্ষণ করিয়া! তাদৃশ আনন্দই উপভোগ করিতেন। আমরা যে সময়ের কথা বলিতেছি, তখন জগ্দীশ- প্রসারের জ্যেষ্ঠটা কন্যাটির বয়ঃক্রম পাচ ৰ২সর-নাম কিরণময়ী এবং কনিষ্ঠীর বয়স চারি বৎসর--নাম হিরখাম়ী। পাঠক, যদ্দি কিরণময়ী হিরণ্মমীর দেহ, রূপ মুখশোভা কিরূপ জানিতে ইচ্ছ। কর, তবে একবার কবিবর বিদ)াপতির

“কনকলতা অবলম্বনে উয়ল হরিণীহীন হিমধাঁমা”%

কবিতাংশটি মনশ্চক্ষের দৃঙ্গিতে ভাল করিয়া দেখিয়। লও আর যদি উভয় ভগিনীর ভাঁলবাঁসা কিরূপ জানিতে চাও, তবে “একবুস্তে কুস্থষযুগল” চিন্তা কর।-_বাস্তবিক ছুইটি ভগিনী একপ্রাণ একচিন্ত, কেবল ভিন্ন দেহ। সর্ধবদ|ই ছুই জনে একস্থাঁনে থেলা করে--একস্থানে বণিয়। আহারকরে--এক দ্রব্য ছুই ভাগ করিয়া ভক্ষণ করে-একস্বানে শরন করিয়া থাকে এক জনকে অপর জন দেখিতে না পাইলে কাদির! উঠে, ভাবিভে থাকে এবং কিছু খাইতে চাছে না। আবার যখন পরস্পরের সহিত পরস্পরের সাক্ষাৎ হয়, তখন উভয়েই উভায়ের গলা জড়াইয়া কতই স্ুখান্ভুভব করিতে থাকে আমরা শুনিয়াছি,এক দিন জগদীশপ্রসাদ একটি মেলা হইতে একটি বচ্মূল্যের অতি উৎকৃষ্ট পুুলিকা ক্রয় করিয়৷ আনিয়াছিলেন। তাহার ইচ্ছা ছিল, ছুইটি কন্ঠ।র জন্য এীন্ধূপ ছুইটি পৃতুল কিনিয়া লইয় আবেন।কিন্তু তাঁহা। সেখানে পান নাই। অবশেষে তিনি সেই একমাত্র পুতুলটি ক্রের করিয়। গৃহে আগমন করেন পুতুল দেখিয়া ছুই কন্তাই ভাহার নিকট দৌড়িয়া আদিল। জগদীশপ্রসাধ হাঁনিতে হাসিতে বলিলেন) “ও কিরণ! হিরণ! তোমর! ছুইটি পুতুল--আবার আঁজ.এই একটি পুতুল আনিয়াছি, কিন্ত তোমাদের মধ্যে কাহাঁকে ইহ] দিব? আচ্ছা, তোমরা দুই জনে এইখান হইতে এখান পর্যন্ত দৌড়িয়া যাও নে আগ্রনাইতে পারিবে, তাহারই

* কনকলতা অবলম্বন করিয়া! কলক্হৌন চজ্র উদয় হউল, অর্থাৎ দেহ কনকলতা আর সুখফওল নিক্ষলঙ্ক তত্দ্র। ইহার নিগুঢ ভাঁৎ্পধ্য এই, অতি হ্থন্নর শরীরের উপরে অধিকতর হুন্দর মুখসগুল।

কুস্থম] হিরণায়ী। ১৩

এই পুকুল।* এই কথ বলিয়া তিনি দৌডির়1 যাইবাঁর একটি স্থান নির্দেশ করিয়া দ্িলেন। তৎক্ষণাৎ ছুই ভগিনী দৌড়িল। বয়স শক্তি অনুসারে দেখিতে গেলে, অগ্রে কিরণমর়ীরই তথায় পৌছিবাঁর কণা, কিন্তু তাহ হইল না। হিরগ্ময়ীই কিরণের অগ্রে কথিত স্থানে উপস্থিত হইল কিরণ বস্ত্র পরিধান' করিয়াছিল, ছুটিবার সময় পায়ে জড়াইরা পড়িয়া গেল হিরণ্ময়ী নগ্রা, সুতরাং কিছুই তাহাকে বাধ দিতে পারিল না। তখন জগদীশ- প্রনাঁদ “হিরণ জিতিয়ীছে--কিরণ হাবিয়ীছে” বলিয়। কনিষ্ঠার হস্তে পুক্ত- লিক প্রদান করিলেন কিরণময়ী কিঞ্চিৎ ক্রোধনিশ্রিত লজ্জায় বিদ্মকাঁরণ পরিহিত বনের অঞ্চল ছি'ড়িরা ফেলিল। তখন জগদীশপ্রপা্দ তাড়াতাড়ি তাহাকে ক্রোড়ে লইর1 সান্ত্বনা করিয়। বলিলেন, “কির ! কাঁন তোমাকে এই রকম আব একটি পুতুল আনিয়। দ্িব।” কিরণমরী কি্ভাবিয়। অন্য দিকে মুখ ফিরাইয়। রহিল। তাহার সেই ভাব দেখিয়া হিবগ্ুরী ক্ষণেক কাল কি ভাবিল; পরে ততক্ষগাঁৎ দেই জয়লব্ধ বহুমুগ্যের পুভ্তলিকাটি কিরণময়ীকে দিতে চাহিল, কিন্ত সে উহা! লইল না ।-_-অবশেষে হিরণয়ী পুন্তলিকাটিকে দ্বিণও করিয়া উদ্ধভাগ কিবণুনরীকে দেখাইরা বলিল, “দিদি! তুমি আধখানা লও আর আমি আধখানা লই |”

জগদীশপ্রসাদ হিরগ্ুয়ীকে পুন্তলিকাটি দ্বিখণ্ড করিনে দেখিয় প্রথমতঃ কিঞ্চিৎ বিবক্ত হইয়াছিলেন, কিন্ত্ব পরে তাহার এই অপুর্ব ভগিনীক্ষেহ দেখিয়া নিবতিশয় সন্তুষ্ট হইলেন। অনস্তর সাহলাদে উভয়কে উভয় ক্রোড়ে স্তাপন কবিয়া আর এক কক্ষে প্রবেশ করিলেন। সেই ছুই স্নেহময়ী ভগিনীব এইবপ স্নেহসম্বন্কিনী অনেক ঘটন। হইয়াছিল গ্রামেব অপবাঁপর লোকেএ1 শ্বস্ব পুত্র কন্ঠাপিগকে সন্ভাব শিখাইবার জন্য কিরণময়ী হিরণায়ীকে দৃষ্টান্তস্থল করিয়া প্রারই বলিত-_

“কিরণ হিরণ ছুই বোন্‌,

ছুই শরীরে এক মন্‌।”

পাঠক, তোমাকে কিবণময়ী এবং হিরগ্নয়ীর রূপ ভগিনীক্নেহসন্বন্ধে একপ্রকার বুঝাইর়া দিপাম, কিন্ত ,সানর্ধ্যস্বন্ধে আরও কিঞ্চিৎ বলিব ।--

১৪ গল্পকল্তরু | প্রথম

উহারা উভয়েই রূপবর্তী, তবু উভয়ের মধ্যে কিঞ্চিৎ তাঁরতম্য দেখ ।__ কিরণনয়ী স্থবর্ণগঠিত1 আর হিরণুয়ী সরভুস্থ বর্ণনিশ্দিতা |

জগদীশপ্রসাদের বয়ঃক্রম অন্যান চৌব্রিশ বৎসর | তাঁহার আবয়বিক গঠনপ্রণালী দেখিলে, তাহাকে নিরোগ বলিষ্ঠ বলিয়। বিশ্বাস হইত আকৃতি নাতিদীর্ঘ, নাতিহ্্স্ব। শরীরের বর্ণ ফিট গৌর। ললাটদেশ বিস্তুত--চক্ষয্গল আকর্ণবিস্তুতও নহে; ক্ষুদ্রও নহে, অথচ অতি হ্বন্দর__ যেন পূর্ণমাত্রায় বিকসিত রহিয়াছে জযুগল মুলস্থলে স্থুল হইয়া ক্রমশঃ অন্ত্যন্থলে কপ হইয়াছে) স্থতরাং ভাল বই কি বলিব? কর্ণ ছুইটি যথাযোগ্য গ্রগুদ্ধয় পূর্ণ তাবিশিষ্ট নাপিকাটি টিকলো। ওষ্ঠাধর পুরুও নহে, সরুও নহে। চিবুক মানানসই তিনি শ্াশ্রবহন করিতে ভালবাসেন না বলিয়াই হউক বা অন্ত কোন ক।রণেই হউক- শ্রশ্রুহীন। কিন্তু ক্ষোরকারের ক্ষুর-ঘর্ষণে তাহার শ্মঞ্লোমাবলী নির্মূল হইরাও হয় নাই। এক কর্ণের মূলদেশ হইতে অপর কর্ণের মূলদেশ্‌ পর্য্যন্ত ঈষন্লির্গত শ্বশ্রুলোম্গুলি কৃষ্চবর্ণ হইয়! আছে। তাহার গোঁফ যোড়াটি বেণীপাতি, সুতরাং গোফবংশের রাজা। কাভার বক্ষ বিশাল। কটিদেশ অস্ুল। বাহুযুগল বেশ গোল। পদদ্বয়ও শবীরের নিম্মীণানুঘায়ী উপযুক্ত। সমুদয় অঙ্গগ্রত্যঙ্গ খুব স্থল৪ নহে--খুব শ্ীণও নহে), অথচ কোনখানে একথানি অস্থিরও উচ্চতা দেখা যায় না। স্রতরাং ইহাঁরই নাম নিটোল শরীর। জগদীশপ্রসাদ সর্ধর্দাই শ্বেতবস্ত্ বাবহার করিতেন তিনি অনেক ধশ্বধ্যের অধিপতি হইয়াও পরিচ্ছদের পারিপাট্য ভালবাসিতেন ন1।

জগদীশপ্রসাদের সহধন্মিণীর নাম জাহবী। তাহার বয়ঃক্েম পঞ্চনিংশ বৎসর। জাঙ্বী অত্যন্ত শ্বামিভক্তিপরায়ণা ছিলেন। বাস্তবিক জাহবীকে ষে সকল স্ত্রীলোক দেখিত, তাহারা তাহাকে গতিভক্তির প্রতিমূর্তি বলিত। যেরূপ ন্ধপ গুণ প্রস্থতি থাকিলে নারীকে বিধাতৃস্থষ্টির সর্বোৎকৃষ্ট কারুস্থল বল! যাইতে পারে, জাহ্নবী দেবীতে তত্তাবংই লক্ষিত হইত। কেবল তাহার বাঁনচক্ষু ভাবত ঈষৎ বঙ্কিম ছিল।

জগদীশপ্রসাদের স্কন্ধে অনেকগুলি পোষ্য পড়িয়াছিল। তন্মধ্যে নিয়ে কএকজন প্রধান ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা যাইতেছে। তাহার একটি

কুস্থম] হিরগায়ী ১৫

কনিষ্ঠ! বিধবা ভগিনী, ছুইটি ভাঁগিনেয়, একটি ভাঁগিনেয়ী, একটি ষষ্টিবর্ষীর! পিতৃম্বসা, দুইটি বিধবা মাঁতুলানী পাঁচজন মাতুলপুত্র এতৎ্ব্যতীত আরও অনেকগুলি জ্ঞাতি কুটুম্ব তাহার বাটিতে প্রতিপালিত হইত

জগদীশপ্রসাদের বাস্তবাটী খুব বৃহৎ-সাত মহল। প্রথম মহলে দরদালান বৈঠকখান1। দ্বিতীয় মহলে কাচারী বাড়ী। তৃতীয় মহলে দ[ন দাসী, দ্বারবান্গণ বিবিধ সামগ্রী খাঁকিত। অবশিষ্ট চারি মহলের প্রথম মহলে তাহার আজ্মীয়ের এবং দ্বিতীয় মহলে আপনি থাকিতেন। তৃতীয়ে গোশাল! এবং চতুর্থে পাকশালা ছিল। গোশালা পাকশালার বহির্ভাগে আরও ছুইটি দ্বাব ছিল। গ্রামেব অনেকানেক দরিদ ব্যক্তি প্রত্যহ ধ্রদ্বার দিয়া পাকশালায় আনিয় আহার করিত। এই দ্ররিদ্র- ভোজন-ব্যাপারে জগদীশপ্রসাদের মাসিক ব্যয় প্রায় পাঞ্ ছয় শত টাক পড়িত।

জগদ্দীশপ্রনাদের বাস্তবাটীর পশ্চিম দিকে ঠাকুরবাড়ী। তথায় রাধা- কৃষ্ণের বিগ্রহ শালগ্রামশিল! প্রভৃতি কতিপয় দেবমু্তি ছিল। সেখানে প্রত্যহ একশত জন অতিথির ভোজনকার্ষ্য সম্পন্ন হইত। ন্নানযাত্রা,রথযাত্রা, ঝুলনযাত্রা, দোলযা ত্র! প্রন্থৃতি হিন্দুদিগের যাবতীয় পর্বাহোত্সব সম্পাদিত হইত

পাঠক, এইবার তোমাকে জগদীশপ্রসাদ্দের একটি বিশেষ সখের জিনি- ষের কথা বলিব। €সটি একটি বৃহৎ বাগান। তিনি উহার নামকরণ করিয়াছিলেন-_-ননদনকানন”। তথায় বিবিধলাতীয় বৃক্ষ লত! গুল রোপিত হইয়াছিল। তিনি যেখানে যত প্রকার ভাল ভাল ফলের বা ফুলের গাছ পাইতেন, সকলই আপনার বাগাঁনে আনিয়া রোপণ করিতেন। ছয় খতুতেই তাহার আদরের নন্দনকানন অপর্যাপ্ত ফলপুষ্প প্রমৰ করিত। নন্বনকানন ছুই ভাগে বিভক্ত। সেই ছুই ভাগেই ছুইটি পুক্করিণী ছিল। এক্ষণে পাঠককে দ্বিভাগ-বিভক্ত নন্দনফাননের বিষয় সংক্ষেপে বলি- তেছি;- প্রথম বা দক্ষিণভ"গ--মধাস্থলে সরোবর ইহার জ্রল অতি পরিফার। কোন স্থানে কিছুমাত্র শৈবাল বাদাম নাই, কিন্তু মত্স্ত অপ- ধ্যাপ্ত। চারি দ্িি:ক চারিটি ইষ্টকনির্মিত সোপানবদ্ধ অবতরণ-স্থান (ঘাঁট)।

গল্পনকল্পতরু | [প্রথম

তন্মধ্যে পুর্বদিকের ঘাটটিই সর্বাপেক্ষা বৃহদীয়তন। ঘাটের চাতালের উপরিভাগে লৌহতারনির্মিহ ফটক। সেই ফটকের উপর ছুই তিন জাতীয় লত! জড়াইয়! ছিল। সকলগুলিই পরস্পরকে আলিঙ্গন করিয়! মৃদুল সমীরণ-হিললোলে শিরঃসঞ্চালন করিত দেখিলে বোধ হইত) যেন তাহাঁব। মান্ষকে এই বলিয়া নিন্দা করিত,--"ও মানব ! তুমি আত্মাবান্‌, ভইয়াও আত্মাশন্ত আর আমরা আম্মাশূনা ভইয়াও আত্মাবিশিষ্ট যদি বল, কেন? তবে বলি শোন) তোমাদের ভালবাসাব নাম স্বার্থপরতা আর আমাদের ভালবাসার নাম আঞ্জঅমর্পণ। স্বার্থপর মানব !ভুদি ভালবাসঠর ভাৰ করিয়া স্বার্থমাধন কর, কিন্ত আনবা ভালবানার জন্য আত্মসনর্পণ করি। ইহার প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেখিতে চাও ? আইস ।--আমার নাম মালতী, আমি মাধবীকে বড় ভালবাসি-মাধবীও আমাকে অতান্ত ভালবাসে, এইজন্তই আমর! চির-আলিঙ্গিত হইয়। রহিয়াছি। নিষ্ঠর মানব! তুমি যদি আমা- দের একজনকে টানিয়1 বিচ্ছিন্ন কর, তাহা হইলে অপরজন কখনই তাহাকে ত্যাগ করিবে না।--মালভীকে টানিলে মাধবী মরিবে-_আঁর মাধবীকে টানিলে মালতী মরিবে-নিশ্চর মরিবে। তাই বলিতেছি, মানব ! তুমি আম্মাবাঁন্‌ হইর! আত্মাশুন্য আর আমরা আম্মাশূন্য হইয়া আত্মাবিশিষ্ট।৮

জগদীশ প্রসাদ এই পুদ্ধরিণীর নাম রাখিয়াছিলেন-রাঁধাকুণ্ড। রাধা- কুণ্ডের জল অপরটির অপেক্ষা! স্বচ্ছ, লঘু সম্পূর্ণরূপে পঙ্কবাসশূলা। ইহার চতুস্তীরে সানাবিধ প্রম্পহর কুস্থমাভরণে সুশোভিত তৎপশ্চাৎ প্রথম শ্রেণীর শ্রেণীবদ্ধ আত্রবুক্ষ। রাঁধাকুণ্ডের তটস্থ ফুলভরুকুলের শাখোপনিষ্ট বিকপিত কুহ্থগাবলির শ্বেত, রক্ত, নীল, পীভবর্ণ বিশিষ্ট গ্রতিবিস্ব স্বস্ছমলিলে নিপতিত হইয়া দর্শকের চক্ষে ধাধা লাগাইত। বাস্তবিক, দূৰ হইতে দেখিলে এই বোধ হইত, যেন রাশীরুত পুষ্প ভাসিয়া রহিয়াছে জগদীশ- প্রসাদ হুষ্যোদয়ের পুর্বে অব্যবহিত পরে প্রত্যহ নন্দনকাননে ভ্রমণ করিতে আমিতেন। কিন্তু এই উদ্যানের অপর অংশ অপেক্ষা রাধাকুণ্ড বিভাগই তাহার বিশেষ গ্রীতিগ্রদ ছিল।

উদ্যানের উত্তর বিভাগের নাম ললিতাকুণ্ড। কেননা! এই নাঁমে সেখা- নেও একটি -পুঙ্করিণী ছিল। রাঁধাকুণ্ডবিভাগ জগদীশপ্রসাঁদের বায়ুসেবনের

কসম] হিরণয়ী | ১৭

আর ললিতাকুণ্ড বিভাগ তীহাঁর প্রাতাহিক ব্যগ্গন সংস্কানের সম্বল এই বিভাগে বভবিধ শাকসবজি উৎপন্ন হইত প্রায় প্রত্যহ পাঁচ ছয় বজর! তর- কারীর ঘোগাঁড় এইখান হইতেই হুইত। রাধাকুণ্ড-নরসী-তীরে একটি ইষ্টকনিশ্মিত বিলানভবন, কিন্তু ললিতাফুণ্ডের কপালে তাহা ছিল না থাকিবার মধ্যে মালীদিগের বাঁনোপযোগী চারি পাচখানি তৃণাচ্ছাদ্দিত গৃহ যাহা হউক, মধ্যে বৃক্ষমগ্লীর এরূপ দৃষ্টিরোধক ব্যবধান ছিল যে, বিলাস- ভৰন হুইতে তৃণকুটারসুলি কোন মতেই দেখা যাইত না। ললিতাকুণ্ডে মীন- বংশ বড় বিরল। উহার সলিলোপরি ক্ষত্র বৃহজ্জাতীয় শৈবালদল জন্মিয়াছিল।) জগদীশপ্রপাদ তন্তাবৎ পরিষ্কার করাইতে পারিতেন, কিন্ত শ্বেত রক্তপপ্মের ঝাড় ততনহ মিশিত থাকায়, ছিড়িয়! যাইবার ভঙ্ষে তাঁহা করাইতেন না একমীত্র কমলদলের গুণে লর্লতাকুণ্ডের অপরাপর দোঁষ গ্রহণ করা কর্তব্য নছে। আমাদের বিবেচনায় গুণ সম্বদ্ধে রাধাকুও যেখন প্রধান, তেমনি রূপসম্বদ্ধে ললিতাঁকুণ্ড শ্রেষ্ঠ ললিতাকুণ্ডের তীরস্থ বৃক্ষগণ বড় হতভাগ্য তাহারা ভাহার জলদর্পণে একটিবারও আপনাদের পুষ্পভূষণভূষিত শ্তামলবদ্ন দেখিতে পাইত না। এই ছুঃখেই যেন শৈবাল সরাইবার আশার স্ব স্ব শাখা জলমধ্যে শ্রবেশ করাইয়া রাখিত, কিন্ত দরাইতে পারিত না। কেবল সমীরণ এক এক বার দয়া করিয়া শাখা লাড়িয়। দিলে, কিছুক্ষণের জন্য জলে তাহাঁপ্দের প্রতিবিশ্ব পড়িত। কিস্ত আমাদের বিবেচনায় উহাতে সমীরের দয়ার পরিচয়ের পরিবর্তে পরিহাসেরই বাড়াবাড়ি বলা যুক্তিসঙ্গত। কারণ, অগ্রে ষে বৃক্ষগুলির মস্তক হইতে কুন্নম-ভূষণ ছিডিয়া! ফেলিয়া, পশ্চাৎ নিরলঙ্কার মুখ দেখাইত। তবে বল দেখি, কে উহ্থাকে দয়ার পরিচয় ৰলিবে?

জগদীশপ্রসাদের বাস্তবাটীর পূর্বদিকে এই নন্দনকানন ছিল। উদ্যানটি দীর্ধে প্রস্থে খুব বৃহৎ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ।

আশ্রয়প্রাপ্তি

পাঠক, তুমি এতক্ষণ ধরিয়া জগদীশপ্রসাদের বাস্তব!টী, ঠাকুববাড়ী উদ্যানের বিষয় এক প্রকাঁর শুনিলে, এখন একবার তাহার বাস্তবাটীর দেহুড়ীতে চল

অধুনা! বঙ্গদেশে যেমন ইংরাজি ধরণের ইঈকাঁলয় দেখিতে পাই, ইহার পূর্বে সেইন্ধপ মুসলমান ধরণের অনেক আবাসগৃহ নিশ্মিত হইত )। আজিও বঙ্গদেশের কোন কৌন প্রাচীন হিন্দু জমিদাকদিগের প্রাসাদ মুসলমান প্রণালীতে গঠিত হইয়। আছে কিন্তু এক্ষণে--এই উনবিংশ শতাব্দীতে আর মহম্মদীয় প্রণালী নাই,কিস্ত ইউরোপীয় প্রণালী অনেকটা অনুক্কত হইয়াছে ইহা বাঙ্গালির পক্ষে নূতন বলিয়া ভাবিবার প্ররোজন নাই যদ্দি কেহ আমাদিগকে লিজ্ঞাসা করে, সসাগর1 পৃথিবীর মধ্যে কোন্‌ জাতীয় মনুষ্য অনুকরণ বিষয়ে সর্কোচ্চ পুরস্কার পাইবাঁর যোগ্য,তাহা হইলে আমরা বলিব --পআমরা”। বাস্তবিক, প্রকীয় আচার? ব্যবহার, রীতি, নীতি, অশন, বসন, শয়ন, ভবন--রং ঢং সং যা কিছু, সকল বিষয়েই প্রথম শ্রেণীর প্রথম অন্থুকরণকারী “আমরা”। আমাদের আর কিছু থাকুক বা না থাকুক, কিন্ত অন্থুকরণক্ষমতা ষোল আঁন। আঁছে। যাহ হউক, এইবপ সার্বভৌমিক বৈরাট অন্ুকরণবৃত্তি আমাদের অন্ধকার ভবিষ্যৎকে আলোকিত করিবে কি আরও গাঢ়তর অন্ধতমসে ডুবাইবে, তাহার কিছুই জানি না। তবে কি না পুজ্থ।ম্বপুঙ্ঘর্ূপে না জানিলেও স্কুলরূপে এইমাত্র জানি বে, এই সর্ধগ্রানী অনুকরণ আমার্দের পুর্ধপুরুষদিগের নাম পর্য্স্তও গ্রাস করিয়া বসিয়াছে। বোধ হয়, আর কিছু কাল পরে বাঙ্গালি £ওরকে ফিরিঙ্গি' এই নবঙ্জাতিগত মহোপাধিটি আপনা! হইতেই আমাদের উপর বর্তিবে। ভগবান্‌ জানেন, উনবিংশ শতাব্দীর বাঙ্গালির ভবিষ্যৎ কিরূপ ভয়ানক বা ভরসাগ্রদ।

পরিবর্তনশীল কালদেবতার ভৌলদ্ও উনবিংশ শতাব্দীর মিঃ এ+ বি, সি,

কুসুম] হিরগুয়ী। ১৯

বিলাইট।ভ্‌ বানরজী এঞ্ষোয়াঁর, রাধুঃ সাধু মাঁধু প্রভৃতির সহিত ত্রয়োদশ শতাব্দীব জগদীশ প্রভৃতিকে ওজন করিয়! দেখিলে চিনিয়া উঠ! ভার ! এখন কোন কোন বঙ্গীয় ধনী বা মধ্যবিত্তের গৃহে প্রবেশ করিলে সহসা! বোধ হয় ষে, যেন কোন পিন্দব বাঁড়ীন্তে আনিয়ছি না! কি? এই টেবিল-_এই সানক-- এই কাচের গেলাস--এই কাটাছুরী চাস্চে__-এই হ্াট-কোট-পেন্টলন-- এই রাশিকত মদের বোতল ! এই মব দেখিয়া কে বলিবে যেঃ ইহ] ত্রয়োদশ শতার্ীব জগদীশগ্রসাদের দেশ? তাই বলিতেছি বে; ভগবান জাঁনেন্‌ উনবিংশ শতান্ধীর বাঙ্গালির ভবিষ্যৎ কিক্প ভয়াঁণক বা ভরসাপ্রদ

জগদীশ গ্রনাদেন আন্রালিক প্রাচীন হিন্দৃস্থপতিদ্রিগের নিশ্মিত) স্থতরাং উহাতে আধুনিক কোঁন প্রকার অনুক্তির লেশগাত্রও থাকিবার সস্তাবন। কি? কিন্ত ভ্রয়োদশ শতাব্দীতে বঙ্গদেশে স্থপতিকার্ষেক্কর কিবপ গঠনরীতি ছিল, তাহা এক্ষণে ঠিক কবিরা বল! ছুংসাধ্য। তবে এইমাত্র জানা যায়, তখন হিন্দ বৌদ্ধ প্রণালীতে প্রায় অধিকাংশ এবং বঙ্গদেশের আদিম নিবানীদিগের বীতিতে অল্পাংশস্থপিত কার্য সমাধা হইত প্রসিদ্ধ পীঠস্থার কাঙ্গীঘাটের কাগীনশ্দির প্রতি বঙ্গভূমিৰ আদিননিবাপীব এবং কলিকাতাস্থ জগন্নাথের ঘাটে জগন্ন।থদেবের মন্দির বৌদ্ধদিগের স্পতিকার্যের পরিচয়- স্তল। কাণীাতে বিশ্বেখবব গহতি শিবলিঙ্গের যেকপ মন্দির, তাঁহ। বঙগদেশে অতি বিরল, কেবল মুশির্ঘানাদ প্রভৃতি কোন কোন স্থলে জৈন কেঁয়ের। গার্শনাথের মল্দিব সেইবপ ধরণে নিম্মণ করিয়া থাকে কিন্তু এইরূপ মন্দির গ্রথমে কোন্‌ ধন্মাবলঘ্ধিরা স্ষ্টি করিয়াছিল, তাহ! ঠিক করির। বলা বড় কঠিন) শুদ্ধ অন্ুনানেষ উপর নির্ভধ করিয়। এইটি ধরিয়া লইতে হইবে যে, বিশ্বেশ্বরের মন্দিবের ন্যায় যে সকল মন্দিব, উহ] প্রথমে হিন্দু- ধন্মাবলীদিগের দ্বারা স্যষ্ট আর জগন্নাথদেবের মনিরের স্তায় যে গুলির আকাব, উহ! আদৌ বৌদ্ধমতাবলস্বিগণের কত। এইরূপ মন্দিরের ন্যায় অট্রালিক! গ্রাভৃতিরও আদি স্থষ্টিকর্তা সম্বন্ধীয় মূলানুসন্ধান কর] নিতান্ত ছুরুহ।

আমরা! জগদীশপ্রসাদের অট্রালিকাকে হিন্দু বৌদ্ধ এই উভয় রীতির অন্তর্গত বলিয। ধরিয়! লইব। বৌদ্-নীতি হিচ্দুরীতির অন্তর্বর্তী, হ্ুতরাং

গল্পকল্পতরু। [প্রথম

ইহাকে আমরা পরকীয় অনুকরণ বলিব না। জগদীশপ্রম।দও এন্প করাতে অপরাধী নহেন।

বিষয়ে এই পর্যযস্ত। পাঠক! এইবার দর্শক সাঁজিয়া আমার সহিত জগদীশপ্রদাদের দেহুড়ীতে কিয়ৎক্ষণ অপেক্ষ। কর ।--এ্র দেখ, বহিদ্বর্ধর কত উচ্চ। উহার কপাট-ফলকদ্বয়ে কত স্ুলশিরা লৌহকীলক বিদ্ধ রহিয়াছে এক্ষণে প্রাতঃকাল, সুতরাং দ্বার মুক্ত হইয়াছে। প্র দেখ, বহিদ্বরের বহির্ভাগ হইতে প্রথম মহলের দূরস্থিত অস্ত্য সীমা পথ্যন্ত বেশ দৃষ্টিগোচর হইতেছে দেহুড়ীর ভিতর ছুই পার্খে দ্বারবানদিগের বিশ্রামস্থান। তথায় উহাদের অনায়াসবহনীয় রজ্জুগর্ভ খট্রাসমূহ শ্রেণীবদ্ধ হইয়া আছে। &ঁ আবার, প্র দেখ, দৌবারিকদিগের মধ্যে কেহ কেহ ধূলি মাখিয়! দেহুড়ীর বহির্ভাগে ভূব্যায়ার্ম মুদগর সঞ্চালন নেজান আকর্ষণ-করিতেছে। এক এক জনকে দেখিলে কংস রাজার চানুর মুষ্টিকে মনে পড়ে এদ্েখ, নিক্ষিপ্ন কোমল মৃত্তিকা উপর বিশ্বেশ্বর তেওয়ারি গোবিনলাল চৌবে বলপরীক্ষ। বা! বলবুদ্ধি করিতেছে মাধোলাল মিশির বুদ্ধ, স্থতরাং সে আর কুস্তীর দিকে নাই। সে এখন নন্দনকাঁনন হইতে কতকগুলি বিন্বপত্র পুষ্প আনিয়! শিবপূজ1 করিতে বসিয়াছে 1-বোধ করি, উহ্থার মন বপিতেছে,“মাধোলাল। তুমিও এক সময়ে তেওয়ারি আর চৌবের ন্যায় মাটীর উপর আমাকে উলট পালট খাওয়াইতে, কিন্তু এক্ষণে তুমিই আবার সেই মাটীতে শিবলিঙ্গ নির্মাণ করিয়া! পূজা! করিতে বসিয়াছ। মাধো ! তোমার সেই এক দ্রিন আর এই একদিন! আনার সেই একদিন আর এই একদিন ! এবং মাটারও সেই একদিন আর এই একদিন ! মাধোলাল ! এই রকম সকলেরই 1,

জগদীশপ্রসাদ প্রত্যহ প্রাতঃকালে প্রাণসম নন্দনকাননে বাযুসেবন ভ্রমণ করিতে যাঁন আজিও তিনি উক্ত নিত্যক্রিয় সম্পাদন করিয়া বাঁটীতে প্রত্যাগত হইলেন, কিন্তু অন্দরমহলে না| গিয়া দেহুড়ীর বাহিরে একথানি কাষ্ঠাসনের উপর উপবিষ্ট রহিলেন। প্রত্যহ তিনি এমন সময়ে প্রায় অর্ধঘণ্টাকাল এই স্থানে অবস্থান করিয়া থাকেন। কেন? একটি মন্ুষ্যোচিত সৎকার্যের জন্য সে কাধ্যটি কি?ভিক্ষুক্দিগকে চাউল পয়স। দান। একজন দৌবারিক ভিক্ষুকগণকে চাউল অর্থ দিতে থাকে,

কুনুম] হিরগ্নয়ী ২৯

আর তিনি বলির! বসিয়া দেখিতে থাকেন এক একদিন আপনিও শ্বহন্তে এই মহৎ কার্ধ্যটি সম্পন্ন করেন। যখন তিনি দ্বারে দীড়াইয়া শ্বতুজে দরিদ্র ভিক্ষার্থীদিগকে চাউল পয়সা দিতে থাকেন) তখন দেখিলে বোধ হয়, যেন তিনি মনে মনে বলিতে থাকেন, “এই অপর্যাপ্ত অন্পীম কষ্টকর সংসার- দ্বারে অর্থাৎ গৃহদ্বারে আর থাকিতে চাহি না। ভিক্ষুকগণ ! তোমরা আমার এই সামান্ দ্রব্য গ্রহণ করিয়া, আমার একটি অসামান্ত উপকাঁর কর-- আমাকে চিরানন্দপূর্ণ চিরপ্রার্থনীয় সেই দ্বার--সেই মহাদ্বার দেখাইয়! দাও তোঁমরা ব্যতীত কে আমাকে সেই ছুর্গম দ্বাব দেখাইতে পারে ?-- বলবানের ক্ষমতা নাই_-লক্ষপতির ক্ষমতা নাই-বিদ্বানের ক্ষমত। নাই-- কেবল তোমাদেরই ক্ষমত। আছে। সেই মহাদ্বারে প্রবেশ করিবাঁর পূর্বে ঘোরতর অবিচ্ছিন্ন তমস-শঙ্কটে পড়িতে হয়, স্থৃতরাঙড তোমরাই কেবল আলোক প্রদর্শন করিয়! লইয়। যাইতে পার),

অদ্য জগদীশ প্রনাদ স্বীর দ্বারদেশে ভিক্ষুক-বিদায় করিবার আশায় বসিয়। আছেন 1-__-একণে বেলা অন্যুন এক প্রহর হইয়াছে ।__-দেখিতে দেখিতে অনেক- গুলি দরিদ্র শেণী'র স্ত্রীপুরুষ বালকবালিকা হার নিকট উপস্থিত হইল। ক্রমে দানকার্ধ্য আরম্ভ হইল ।-__অদ্য জগদীশপ্রসাদ স্বহস্তে দান করিতেছেন। এমন সময়ে ভিক্ষুকদিগের মধ্য হইতে একটি বালক কীদিতে কাদিতে তাহার নিকট আসিল মে কোন কথা কহিল না, কেবল কাদিতে লাগিল।

জগর্দীশপ্রসাদ তাহাকে তদবস্থ দেখিয়া পরের কষ্টের সহিত নিজের কষ্টের কতদূর ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ, তাহ! বুঝিতে পাঁরিলেন ।-_-বলিলেন, "বালক ! তুমি কাদিতেছ কেন ? অন্ত কোন বালক কি তোমাকে মারিয়াছে ?*

বালক বলিল, ণ"কেহই আমাকে মারে নাই” এই বলিয়। আবার কাদিতে কীদিতে নয়ন মাঞ্জন করিতে লাগিল।

জগদীশগ্রপাদ আবার বলিলেন, প্তবে ভুমি কি জন্ত কাদিতেছ ?”

বালক তীাঁহাব সেই কথার এই উত্তর দিল, “এখান হইতে নদিয়। কতদূর ? সাতগা কোন্‌ দিকে ?”

জগদীশ ভাল করিঘ্1 কিছুই বুঝিতে পারিলেন ন।। আবার বলিলেন, “কেন ?”

গল্পকল্পতরু | [প্রথম

বালক 1--“আমাঁদের নৌকাড়ুবী হইয়াছে আঁমার পিতা মাত আর বড় দাদ। ডুবিয়া গিয়াছেন। আমিও ডূবিয়া গিয়াছিলাম। তীহারা সকলে ডুবির কে কোথায় গিয়াছেন জানি না। বাচিয়া আছেন কি মরিয়া--” এই পর্য্স্ত বলিয়৷ বালক আর বাঁক্যোচ্চারশ করিতে পারিল না আপনা, আপনি কণ্ঠম্বর রুদ্ধ হইয়া গেল। কেবল অস্কট্বরে চীৎকার করিয়। কাদিয়! ভূতূল পড়িয়া গেল।

জগদীশপ্রসাঁদ তৎক্ষণাৎ আপনি স্বহন্ডে তাহাকে উঠাইয়! ব্সাইলেন। একজন দ্বারবানাকে জল আনিতে বলিলেন জল আনীত হইলে, দ্বারবাঁন্‌ প্র বালকের মুখে দিয়া কতকটা! সুস্থির করিল।

জগদীশ প্রনাদ আবার বালককে জিজ্ঞাসা করিলেন)-কোথায় নৌকা মগ্ন হইয়াছে ? কখন হইয়াছে?”

বালক ।--গাঙ্গ।য় পরশু রাঙহিতে |”

জগদীশ ।--৫কি করিয়া 25

বালক 1--«তা, জানি না। তবে এইদাঁজ জানি, নৌকার মধ্যে হু করিয়া জল উঠিরাচ্ছিল |”

জগদীশ গ্রসাদ বুঝিতে গারিলেন, নৌকা বাঁণচাঁল্‌ হইয়া গিয়াছে তিনি আবার জিজ্ঞাসা করিলেন) «তোমার নান কি ১৮

বালক 1--"লীবীরেজনাথ শঙ্মা।

জগদীশ 1--40ভমিবি গিভাঁর নাঁ ?”

বালক ।--শ্রীগোলোকনাগ শশ্ম। 1৮

জগদীশ ।- «তোমার বয়ঃক্রম কত?"

বালক 1-- চতুর্দশ বহসর 1”

জ্রগদীশ ।--“ভুমি নবদ্দীপ আর সপ্ুগ্রামের নামোলেখ করিলে কেন ?*

বালক ।--“নবদ্বীপে আমাদের বাড়ী। সপ্ুগ্রামে যাইতেছিলাম। তাঁর পর গঙ্গায়--”

জগদীশ প্রসাদ বাধা দিয় বলিলেন; «কেন সপ্তগ্রামে যাইতেছিলে 2

বালক ।--4মে রাত্রিতে নৌকা! ড্ব, সেই রাতিতে সন্ধার সমশ্স মুসল- মানের! আমাদের বাড়ী লুঠ করে। আমার পিতা, পরে আরও বিপদ

কুস্থুম] ভিরণায়ী ২৩

ঘটিবে ভাবিয়া, আমাদিগকে লইয়! গোপনে নৌকাঁআরোহণে সপ্রগ্রামে যাইতেছিলেন ।--তাঁর পর দ্রদুষ্টত্রমে-_”

«আচ্ছা, সপ্তগ্রামে কি তোমাদের কোন আঁক্মীযর় লোক আছেন ?” জগদীশপ্রসাদ এই কথ। জিজ্ঞাসা করিলেন।

বালক বলিল, “৩1 আমি ভালজানি না। তবে শুনিয়াছিলাম যে, সেখানে আমাদের পুর্বনিবাস ছিল। আমার পিতামহ নবদ্বীপের রাজ- সরকারে কার্য করিবার জন্য স্বদেশ ত্য।গ করিরাছিলেন |”

জগদীশ ।--সপ্তগাদে ন্োমার কে আছে, তুমি তা জান না,তৰে সেখানে কি জন্য যাইবে ?

বালাক 1--আমার পিত1 নে যাইতেছিলেন 1”

জগদীশ--“হয় তাহার কোন বন্ধুণান্ধব সেখানে থাকিতে পারেন। কিন্ত তোমাকে সেখানকার কে চিনে 2”

জগদীশপ্রসীদের এইরূপ বাক্য শুনির। বালকের চিন্ত অত্যন্ত চিন্তিত হইল। সে আর স্পূগ্রাগের লাম মনোমধ্যে আকিয়? রাখিতে পারিল ন1।-জগদীশগ্রসাদের একটি কথাতেই বালকের নিকট সপ্তগ্রাম অন্ধকারে ডুবিয়া গেল। বালক বিমর্ষ হইয়া অধোমখে কি ভাবিতত লাগিল

দিকে ক্রমে ক্রমে বালকের সঙ্গী ভিক্ষৃকেরা কতকাধ্য হইয়। প্রস্থান করিল। ইহার সহিত তাহার্দিগের অল্প সময়ের আলাপ, স্থৃতরাং তাহার! যাইবার সময় ইহার বিষয় কিছুই ভাবিল না। জগবীশপ্রনাদের সহিত বালকের অনেকক্ষণ ধরিয়। কথাবা্ভী হইতেছে দেখিষ। ছুই তিন জন ভিক্ষুক যাইবার সম্র এই ভাঁখিতে ভাবিতে চলিয়া গেন, “এ ছড়ার আজ স্ুপ্রভাত। কর্তা মহাশয় হয় ইহাকে নূতন কাপড় দিবেন |”

অনস্তর জগদীশপ্রসাঁদ বালককে বলিলেন, "তুমি জলমগ্ন হইবার পর কিন্ূপে তীরে উঠিলে 1- তুমি সাতার জান কি ?”

বালক। * সীতার জানি না। নৌকা ডুবিয়া যাইবার সময় যে ঠিক কি রকম হইয়াছিল,তাহ। বলিতে পাঁরি না কিছুক্ষন পরে আমি জানিলাম, যেন কিসে আট্কাইয়! গিয়াছি। অমনি তখন জানিতে পারিলাম, জলে একট! বড় গাছ পড়িয়া আছে--উহার কতকট। জলের ভিতর আর কতকট!

২৪ গল্পকল্পতরু [প্রথম

জলের উপর রহিয়াছে সেই গাছট! নদীর তীর হইতে জলে হেলিয়া পড়িয়াছিল। উহা কি গাছ তাহা আমি তখন ঠিক করিতে পারি নাই। আমি সেই গাছটিতে আটক পড়িয়াছিলাম বলিয়! বাচিয়াছি, নতৃবা নিশ্চয় মরিয়া যাইতাম। আমি সেই প্রাণদাতা বুক্ষকে অবলম্বন করিয়া ধীরে ধীরে উপবে আসিলাম, কিন্ত মগ্রাবস্থায় অনেকট! জল খাইয়। ফেলিয়াছিলাম বলিয়া অনেকক্ষণ অত্যন্ত কাতর হইয়া! পড়িয়াছিলাম। অবশেষে গলায় আঙ্গুল দিয় বমি করিয়া ফেলিলাম। তখন আপনাকে কিঞ্চিৎ স্স্থবোধ করিলাম। কিন্তু সুস্থ হওয়া অপেক্ষা আগার মৃত্যু হইলে ভাল হইত ।৮ ব্লক এই কথা বলিয়া আবার কীদিয়া উঠিল।

তখন জগদ্রীশপ্রসাদ দেখিলেন, এক্ষণে বালককে আর কিছু বলা ভাল নহে। সে এইরূপ কথায় অত্যন্ত কষ্ট পায়। সুতরাং তাহাকে লইয়! অন্তঃপুরে প্রবেশ করিলেন।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

পাঠগৃহে।

জগদীশপ্রসাদ যে সময়ের লোক, সে সময়ে বঙ্গদেশে স্ত্রীলোকদিগের বিদ্যাশিক্ষাঁর প্রচলন ছিল কি না, তাহ আমর ইতিহাসে দেখিতে পাই না। কিন্ত জগদীশপ্রসাদ জ্ীশিক্ষার পক্ষপাতী ছিলেন। আমরা পুর্ববেই বলিয়াছি, জগদীশপ্রসাদের কন্ত। ছুইটি পুত্রস্থানীয়া তিনি তাহাদিগকে বিদ্যার বিমল জ্যোতিঃ প্রদর্শন করিবার জন্ত একজন শিক্ষক নিযুক্ত করিয়াছিলেন। তিনি নিজে স্বয়ং একজন বিশিষ্টর্ূপ বিদ্বাবান্‌ ব্যক্তি ছিলেন, স্থতরাং তাহার উত্তরাধিকারিণীদ্বয় ভবিষ্যতে যে পরিমাণেই হউক, কতকটা লেখাপড়া শিথিলে তাহার মনোবাঞ্ণ। চরিতার্থ হয়। তিনি এই জন্তই পত্রী ছইটিকে লেখাপড়া শিখাইবার জন্ত একজন পণ্ডিত নিযুক্ত করিয়াছিলেন।

এক্ষণে পূর্ব্বাহ্ন। দিকে ছুর্দশাপন্ন বীরেন্ত্রকে লইর1 জগদীশগ্রসাদ অন্তঃপুরে প্রবেশ করিয়াছেন, দিকে পাঠগৃছে রামজয় বিদ্যানিধি কিরণ-

কুসুম] হিরণীয়ী। ২৫

ময়ীকে পাঠাভ্যাপ করাইতেছেন কিরণময়ী শিক্ষার প্রথম পুস্তকথানি সমাপ্ত করিয়! দ্বিতীয়খাঁনি আরম্ভ করিয়াছে কিরণময়ী শিক্ষকের যত্বে আপনার বুদ্ধিবলে অল্প দিনের মধ্যে পিতার নস্তোষ বৃদ্ধি করিতেছে

বিদ্যানিধি মহাশর উজ্জ্বল শ্তামবর্ণ। তাহার বয়ংক্রম ষষ্টি বর্ষ হইয়াছে তাহার স্থুবিস্তূত ললাটদেশ তাহাকে একজন স্ুবিদ্বান বলিয়া পরিচয় দিতেছে মস্তকের সম্মখভাগে টাক পডিয়াছে-পশ্চান্ভাগে ক্ষরমুত্তিত হইলেও, সেই স্থান যে কেশোৎ্পাদনের পক্ষে উর্বর, তাহা বিলক্ষণরূপে প্রতীয়মান হইতেছে বয়ঠক্রমান্তনাঁবে তাহার কেশ শুত্রবর্ণ হইয়াছে 1--- ব্রাঙ্ষণ পণ্ডিত বাক্তির মুখের নিকটে দাঁড়ী গৌপ কখনই বয়োবৃদ্ধ হইতে পারেনা। তাহাদের সঙ্গে পঙ্ডিতদিগের বড় শত্রুতা এই ভন্য বিদ্যানিধি মহাশয় ক্ষৌরকারকে বড় ভাল বাসেন। রামজয় পণ্ডি হিন্দুধর্মের একজন প্রথমশ্রেণীর ভক্ত। তিনি কপালে দীর্ঘ ফৌটা কাটেন, গলায় ত্রিকঠী তুলসী মালা ধারণ করেন এবং সর্ধদাই মুখে হরিনাঁম উচ্চারণ করিয়া! থাকেন তিনি হয় খতুতেই পট্রবস্্র পরিধান করেন। তাহার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে প্রাণের স্াঁয়) সর্ধদ। একটি শন্থুকের নস্তাধাঁর থাকে তিনি আলশ্ত, নিদ্রা এবং শারীরিক মানসিক জড়তা দূর করিবার জন্য, সেই শম্ুককোষে গুক্ধ চুর্ণমিশ্রিত তাত্রকুটচুর্ণ পরিপূর্ণ করিয়া রাখেন। প্রয়োজন হইলে তন্মধ£ হইতে এক টিপ্‌ নস্ত বাহির করিয়। নাঁসারন্ধেস্পর্শ করাইয়। সুদীর্ঘ অস্তনিশ্বাসে আকর্ষণ করিয়! ফেলেন, অমনি আলস্ত, নিদ্র। জড়তা কোথায় পলাইস়্া যায়। কতক্ষণের জন্য তাহাদের আর অনুসন্ধান পাঁওয়। যায় না। তিনি সর্বদাই সাধুভাষা বাবহার করিয়। থাকেন। কিন্তু তাহার শারীরিক বার্দক্য- বশতঃ বাকোরও বাদ্ধক্য জন্মিরাছে 1--ফল কথা, একজন নচ্চরিত্র সুশিক্ষিত ব্রাহ্মণ পণ্ডিতে যে সকল গুণ লক্ষণ থাক চাই, তত্তাবৎ রামজয় বিদ্যানিধি পঙিত মহাঁশয়ে বণ্িরাছিল জগদীশপ্রনাদ তাহাকে বিশেষন্ধপে শ্রদ্ধা ভক্তি করিতেন।

পাঠগৃহের মধ্যস্থলে বিদ্যানিধিব সম্মুখে বসিয়া কিরণময়ী আপনার পুরাতন পাঠ আলোচনা কগিতেছে, আর বিদ্যানিধি মহাশয় নেজদ্বয় নিমীলিত করিয়া আদ্যোপান্ত শুনিতেছেন। কিন্ত মনুষ্য নানাচিস্তার চির-

২৬. গয্পাকললতরু। (প্রথম

কিঙ্কর। যেদিন হইতে মনের সৃষ্টি, সেই দিন হইতেই চিন্তা তাঁহার জীবন; গৃতরাং যেখানে মন সেই খানেই চিস্তা_চিস্তামনের কখনই বিরহ ঘটে না। ইহাদের পরম্পরের বিচ্ছেদ সংঘটনেরই নাম মৃত্যু যে দিন মাুষ মরিবে, সেই দিন মনও মরিবে। এক দিকে মন্ুধ্যের বাধুজ প্রাণ দেহ ছাড়িয়া পলায়ন করিবে, অপর দিকে মনের প্রাথরূপ চিন্তা পলাইয়া যাইবে ।--ইহ! স্থির সিদ্ধান্ত। বিদ্যানিধি মহাশয় মন দিয়! কিরণের পুরাতন পা শুনিতেছিলেন বটে, কিস্ত মধো মধো,কি জানি, কিসের চিস্তাঁ আসিয়। তাহার মনকে অন্ত স্থানে লইয়া যাইতেছিল। কাজেই তিনি থাকিয়া থাঁকিক্স1 বলিতে লাগিলেনঃ “কি বলিলে মা! আবাব বল।%

কিরণময়ীও চিস্তার নৃতন সহচরী। সেও পড়িতে পড়িতে অন্যমনস্ক হইতেছিল। তাহার তৎকালের অন্তমনস্কতার কারণ হিরণায়ী। হিরণায়ী পণ্ডিত মহাশয়ের পশ্চাতে কিঞ্দ্দরে বসিয়া একটি কাষ্ঠ পুত্তলিকা লইয়া! থেক করিতেছিল, আর কিরণমফ়ীর উচ্চাধিত এক একটি বর্ণ বাক্য এক একবার সুমধুর কণ্ঠে অক্ষটস্বরে প্রতিধবনিত করিয়! পুতুলটিকে আপন মনে ভালে তালে মৃত্তিকার উপর ফেলিতেছিল। পণ্ডিত মহাশয় চক্ষু মুদ্রিত করিয়া আছেন দেখিয়া, কিরণময়ী নিঃশঙ্ক চিত্তে হিরণ্য়ীর পাঠাত্যাস শুনিতেছিল এবং তাহার পুত্তলিকাক্রীড়৷ দেখিতেছিল। কিরণের মুখ পাঠ অধ্যয়ন করিতেছিল বটে, কিন্ত তাহার মন চিস্তার সঙ্গে ছুটিয়া গিয়! হিরণকে আলিঙ্গন করিতেছিল। এমন সময়ে টিস্তাব পুরাতন সহচর নেত্র উন্মীলন রিয়া গম্ভীর শ্বারে বলিয়া উঠিলেন, “কি বপিলে মা! আবার বল।”

অমনি চিন্তার নব সহচরী কিরণময়ী চম্কাইয়া উঠিয়। আবার অন্ীত পাঠের সহিত সাক্ষাৎ করিল ।--এইকূপে গুরুশিষ্যার পাঠকার্ধয চপিতেছে, এমন সময়ে ধীরেন্ত্রকে লইয়। জগদীশপ্রসাদ সেই গৃহে প্রবেশ করিলেন।

জগদীশপ্রসাদের প্রতি ক্রীড়ানিমগ্র। হিরখায়ীর সর্বগ্রথমেই দৃষ্টি পতিত হইল। লে”এই বাবা) কোলে কর, বাবা !” বলিতে বলিতে পিতার নিকট দৌড়িয়া আসিল। তখন পণ্ডিত মহাশয় "আসিতে আন্ত! হউক” বলিয়া জগদীশগ্রসাঁদকে অভ্যর্থন। করিলেন। পরস্পরের গ্রতি পরস্পরের নমস্কার

কুহুম] হিরপ্মরী। ২৭

প্রতিনমস্কার-ব্যাপার চুকিয়া গেল। জগদীশপ্রসাদের সঙ্গে একটি অপরিচিত বালককে গৃহমধ্যে আসিতে দেখিয়া! রামজয় বিদ্যানিধি জিজ্ঞাসা করিলেন, "মহাশয় এই বালকটি কে?

তখন জগদীশপ্রসদ ধীরেন্দ্রনাথের বিষয় আদ্যোপান্ত বলিলেন। বিদ্যা- নিধি মহাশয় তাহা শ্রবণ করিয়! ছুঃখসহকারে কতকটা বিশ্মিত হইলেন।

জগদীশপ্রমাদ রামজয় বিদ্যানিধি উভয়ের মধ্যে যে সময়ে ধীরেন্্র- নাথের কণা হইতেছিল, সে সময়ে ধীরেন্্রকে দেখিয়! কিরণমরী হিরপুরীর দৃষ্টি পরিবহিত হইয়াছিল। কিরণময়ী বালিকা হইলেও কিঞ্চিৎ বয়সের আধিকাবশতঃ লজ্জার বশীভূত! আর হিরগ্নরী কিরণময়ীর অপেক্ষা বয়োনুন বলিয়া লজ্জার শাসনাধীন নহে স্থতরাং অপরিচিত, বালককে দেখিয়!

ভয়েরই ছুই প্রকার দৃষ্টিপরিবর্তন ঘটিল। ক্িরণময়ী প্রথমে উচ্চৈঃস্বরে

পাঠ অধ্যয়ন করিতেছিল, কিন্তু বেমন দীরেন্ত্রকে দেখিল আর অমনি তাহার উচ্চ স্বব মুছু হইব আনিল। এক একবার নবাগত বালকের দিকে দৃষ্টি- নিক্ষেপ করিতে লাগিল আর আস্তে আস্তে অন্ুচ্চ স্বরে পাঠ অধ্যয্বন করিতে থাকিল। পরবালককে নিরীক্ষণ করিয়া লজ্জা যেন তাহার চাপিয়! ধরিল। কিন্ত এদিকে হিরগ্নয়ী ধীরেন্রকে অপরিচিত বুঝিতে পারিয়াও জরক্ষেপ করিল না। সে ধীরেন্দ্ের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া বলিয়া উঠিল, “আমার সঙ্গে তুমি পুতুল খেলা করিবে ?”

হিরগ্ুয়ীর সেই সুমধুর কণঠনিংস্থত কথা কএকটি শুনিয়া! ধীরেন্ত্র আত্মা- বস্থ। ক্ষণকালের জন্য ভুলিয়! গিয়া তাহার দিকে চাহিয়া একবার ঈষৎ হাসিল। আবার ততক্ষণ।ৎ অন্য দিকে মুখ ফিরাইল।

কথার উত্তর না পাইয়া হিরগ্নয়ী ধীরেন্রের হস্ত ধারণ করিল। তাহার মাত! তাহাকে একখানি লালরঙের কাপড় পরাইয়। দিয়াছিলেন, কিন্ত সে পাঠগৃহে আসিয়া উহ। খুলিয়! গলদেশে স্ন্ধে জড়াইয়। রাধিয়াছিল। খগন সে ধীরেন্দ্রনাথের হস্ত ধারণ করিল; তখন বাম হস্তে সেই গলস্বন্ধবেহ্িত বস্ত্রের একাংশ চর্ধণ করিতে করিতে দক্ষিণ হস্তে তাহার দক্ষিণ কর আকর্ষণ করিয়। বসন চর্ষিত মুখে উচ্চৈংস্বরে বলিব।“তুমি কেন আমার সঙ্গে খেলিৰে না? বড় দিদির সঙ্গোক খেলিবে?

২৮ গল্লকল্পতর্ক। [প্রথম

হিরণয়ীর কাঁওুকারখাঁনা দেখিয়া লঙ্জিতা কিরণসয়ী অধোমুখে এক্‌টু হাঁসিয়! উঠিল।

হিরগ্মনীকে ক্রোড়ে লইতে ধীবেন্রনাথেব অত্যন্ত ইচ্ছা হইল, কিন্ত স্বয়ং অপরিচিত বলিয়া তাহা পারিল শ1।

এদিকে জগদীশপ্রদাদ আবাব বিদ্যানিধিকে বলিলেন, “মহাশয় | এই বালকটিকেও আপনি লেখা পড়া শিখাউন। এখন ধেকালে আমি ইহার

প্রতিপালনের ভাব লইয়াছি, তখন্ম বিদ্য|শিক্ষাব ভাবও লইতে হইবে।

ঘত দিন ইহার পিতামাতা অগ্রলের কোন সন্ধান না পাইতেছি, তত দিন ইহাকে পুত্রের ন্তায় দেখা কর্তব্য।

বিদ্যানিধি বলিলেন, “ইহা আপনা স্ার দঘালু ব্যক্তিরই কর্তব্য কাধ্য বটে। ধাহাব আশ্রয়ে প্রতিদিন শত শত লোক প্রতিপালিত হইতেছে) তাহার নিকট ইহা কোন্‌ বিচিত্র বিষর ?” রি কথা নিবি তিনি এক টিপ্‌ নস্ত গ্রহণ করিলেন

এইন্ধপে ধীনেন্ত্রনাথেব ভবণপোঁষণ শিক্ষালাভেৰ বন্দোবস্ত হইয়া গেল ধীবেন্দ্র জগদীশগ্রসাদেব এই সদাশবতায অত্যন্ত আনন্দিত হইল, কিন্ত তথাপি তাহার হৃদয়ে যেন কিসের অত্যন্ত কষ্ট রহিয়া গেল। সে কষ্ট যে কি, তাহ! পাঠককে আব বলিতে হইবে না।

অনন্তর বিদ্যানিপ্রি মহাশয় সে দ্রিনকার মত বিদায় হইলেন। জগদীশ- প্রসাদও ছুইটি কন্ত। ধীরেন্দ্রকে লইয় বাট়ীর মধ্যে গেলেন।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

অনুসন্ধান |

জগদীশপ্রসাদের পুত্রবৎ অক্ত্রিম স্সেহে ধীরেন্দ্রনাথ প্রতিপালিত হইতে লাগিল। যখন যাহা প্রয়োজন হয়, তাহাই পায়। অধিক আর কি বলিব, একজন ধনীর পুত্র যে অবস্থায় কালঘাঁপন করিয়া থাকে, ধীরেন্রনাথ ঠিক সেই অবস্থায় রহিল। এইরূপে পাঁচ ছয় মাস অতীত হইয়া! গেল।

কুসুম হিরণায়ী। ২৯

এক দিন জগদীশপ্রসাঁদ সন্ধার পর গৃহমধো বসিয়া সংস্কৃত রামায়ণ পাঠ করিতেছেন, এমন সময়ে বীরেন্দ্র-তাহার নিকট আসিয়া বমিল। জগদীশ- প্রসাদ জিজ্ঞাস! করিলেন, “আহার করিয়াছ ?”

ধীরেক্র অধোষুখে যেন কি ভাঁবিতে ভাবিতে উত্তর দিল, “আজ্ঞা! করিয়াছি ।৮

জগদীশপ্রসাদ বলিহুলন, “অমন করিয়া বিলে কেন ?--কেহ কি তেমাঁয় কিছু কষ্টকর কথ! বলির়াছে ?”

বীরেন্দ্র 1--"ন11৮ এই বলিরা অন্ত দিকে মৃথ ফিরাইরা অশ্রু মোচন করিল।

জগদীশ প্রসাদ